শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
বিডি ২৪ ক্রাইম সাথে থাকুন। আপডেট খবর পড়ুন

অজানা রহস্য

রির্পোটারের নাম / ৪৭ বার প্রিন্ট / ই-পেপার প্রিন্ট / ই-পেপার
আপডেট সময় :: বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩, ২:২৪ অপরাহ্ণ

লেখিকা শারমিন আক্তার সেজুতি

প্রত্যেক মানুষের চলার পথে কতইনা গল্প কাহিনী রয়েছে তেমনি আমার জীবনে আমার সাথে যে ঘটনাটা ঘটেছে ১৮ তারিখ ৮ মাস ২০২২ এর তার এক মাস আগে আমি ময়মনসিংহ বনলতা হোস্টেলে ম্যানেজারের চাকরি নেই ।আর ঘটনাটা সেখানেই ঘটে সেই হোস্টেলে আমার অনেক বেশি পরিচিত দুইটা মেয়ে ছিল। একজন ছিল সুচি অন্যজন ছিল সামান্তা ।তবে আমি আসার কয়দিন পরে সামান্তা চলে যায়, আর আর সূচি তো পরীক্ষার্থী সে রয়ে যায় ।সব মেয়েদের সাথে আমার সম্পর্ক অনেক ভালো ,সবার খোঁজ খবর নেই মেয়েরা কোন সমস্যায় পড়লে তা সলভ করে দেই তবে সুচির প্রতি ছিল আমার অনেক স্নেহ আদর ভালোবাসা। ওকে দেখলে আমার মন ভালো হয়ে যায় কথা বলতেও বেশ ভালো লাগে।

সুচি আমার অনেক ছোট সে হিসাবে স্নেহ করি ,মোটামুটি অনেক ভালই আমাদের সম্পর্ক ছিল আমি ওর রুমে গেলে বসতে বলতো অনেক কথা বলতো যাই হোক সূচিকে নিয়ে বলতে গেলে শেষ হবে না কারণ ওকে আমার অসম্ভব ভালো লাগে ছোট বোনের মত স্নেহ করি। অন্যথায় আমি যে রুমে থাকি সেই রুমে আমার সাথে দুইটা মেয়ে থাকে একজন ফারিয়া অন্যজন নাফিসা দুজনেই অনেক ভালো নম্র ভদ্র মেয়ে একদিন তিন তলায় একটা মেয়ের ক্যালকুলেটর চুরি হয়ে যায়, আর হ্যাঁ আমাদের হোস্টেলটা চারতলা ছিল তিন তলা থেকে মেয়ে আমাকে কল করছে বলছে আপু উপরে আসেন আমি দৌড়ে যাই উপরে আমি তার রুমে সব কিছু সার্চ করি এবং কোন কিছু খুঁজে পাইনি, বিষয়টা হোস্টেলে পরিচালক কে জানায় তার দুইদিন পরে আমার টাংক থেকে ১০০০ টাকা চুরি হয় ,আমি তো হতাশ হয়ে যাই এটা কিভাবে হলো এবং এই কাজটা কে করল আমি কাউকে কিছু না বলে ওই এক হাজার টাকা আমি জরিমানা দেই কারণ সে টাকাটা আমার ছিল না সেটা ছিল হোস্টেলের টাকা ।পরে আমি ভাবতে থাকি এই টাকাটা চুরি করতে পারে কে ?

আমার চাবিটা এক মেয়েকে দিতাম সে আমার রুমমেট ফারিয়া চুরি করতে পারে তবে ফারিয়া অভ্যাস অভ্যাস খুব খারাপ ছিল তার কাছে কোনো ছেলে টাকা চাইলে পাগল হয়ে যেত ,তার কাছে না থাকলেও অন্য মেয়েদের কাছ থেকে ধার নিয়ে দিত পরের দিন ওর এক বান্ধবী তিনতলায় থাকে সে আমাকে ডেকে বলছে আপু আপনার এক হাজার টাকা হারিয়েছে ওইটা কি একটা নোট ছিল ?আমি বললাম হ্যাঁ নোট ছিল সে বলল ফারিয়া তো কাল আমাকে এক হাজার টাকা নোট দিয়েছে আপনি ভাল করে খোঁজ নেন টাকা কি ফারিয়া নিয়েছে কিনা ?আমি বিষয়টা মনে মনে রাখলাম তার বাবাকে ফোনে জিজ্ঞেস করলাম আপনার মেয়েকে কি বিকাশে কোন টাকা পাঠাইছেন উনি আমাকে না বললেন এরপর আমি ফোন চেক করি সেখানে ফারিয়া কোন টাকা ক্যাশ আউট করেনি তাহলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি অনেক কষ্ট পাইলাম কারণ মেয়েটাকে আমি ভীষণ আদর করতাম ভালবাসতাম সে এমন কাজ করবে ভাবতেই খারাপ লাগে তারপরেও আমি রুমে গিয়ে বলতে লাগলাম আবেগের সাথে কে টাকাটা চুরি করল আমি তো কোনদিন কারো ক্ষতি করিনি তাহলে কেন আমার সাথে এমন হয়। একসাথে সেখানে ১০ হাজার টাকা ছিল সেখান থেকে এক হাজার টাকা চুরি হয়ে গেল এটা কে করল আমি ভাবতে থাকি আর বলতে থাকি মানুষকে কত বিশ্বাস করি ভালোবাসি পরে আমি আরো বলছিলাম পরিচালক জানলে আমাকে চাকরি থেকে বের করে দেবে আমার চাকরি থাকবে না আমি আর এখানে চাকরি করতে পারবো না ,চলে যাব এ কথা শুনে ফারিয়া এবং নাফিসার খারাপ লাগে এই বিষয়টা ফারিয়া বেশি খারাপ লাগে আমি চলে যাব এ কথা শুনে তারপর আমি সন্ধ্যার দিকে তাকে একা নিরিবিলি পেয়ে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি ।

তুমি কি কোন সমস্যায় পড়েছিলে কি কারনে আমার কাছ থেকে টাকা চুরি করলা ?প্রথমে না করে ফারিয়া, পরে স্বীকার করে এবং আমার পায়ে ধরে ক্ষমা চায় আমি তাকে ক্ষমা করে দেই এবং তাকে ভালো হওয়ার জন্য একটা সুযোগ দেই। কিন্তু হোস্টেলে আরো মেয়েরা ছিল তারা বলতেছে এখানে চোর ধরা পড়ার পরেও কেন তাকে বেশি শাস্তি দেওয়া হলো না কেন চোর প্রশ্রয় পাবে? তারপর আমি সব দিক চিন্তা করে তার মা-বাবাকে খবর দিয়ে নিয়ে আসি এটা ফারিয়া জানতো না যে তাকে হোস্টেল থেকে বের করে দেয়া হবে তার মা বাবা আসে এবং সব খুলে বলি আর বলছি আপনার মেয়েকে হোস্টেলে রাখা যাবে না ওকে হোস্টেল থেকে বের করে দেই তাছাড়া আমার কিছু করার ছিল না। গল্প এখানেই শেষ না ফারিয়াকে বের করে দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করেছিলাম ।তার পরে হোস্টেলে ফারিয়াকে নিয়ে কেউ কিছু বলে নাই ,এর মানে তারা ধরে নিয়েছে হোস্টেলে এখন কোন চুর নাই ফারিয়া চলে যাওয়ার একমাস পর হোস্টেলে গেটের কাছে টাকাসহ একটি চিঠি আসে ।চিঠি কে রেখে যায় তা আমি জানিনা, হোস্টেলে অন্য একটা মেয়ে চিঠি পেয়ে আমার কাছে নিয়ে আসে, এবং সেই চিঠিতে লেখা ছিল প্রিয় ম্যানেজার আপু ফারিয়া টাকা চুরি করে নাই টাকা চুরি করেছি আমি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন আমি কখনো এমন অন্যায় কাজ করবো না ,আপনি অনেক ভালো মানুষ আপনি ফারিয়াকে বাঁচান ওর বাবা মা ওর পড়াশোনা বন্ধ করে দিবে ওর জীবনটা আপনি নষ্ট হতে দিয়েন না ,ওর মাকে বুঝিয়ে বলেন ওকে বাঁচান ও শুধু আপনার জন্য সব স্বীকার করেছে আপনি ভালো মানুষ কেন চলে যাবেন? হোস্টেল থেকে এর জন্য স্বীকার করে, যাতে আপনি হোস্টেল থেকে চলে না যান।

ম্যানেজার আপু আপনি দয়া করে ওকে বাঁচান ও সাইন্সের ছাত্রী ও ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয় প্লিজ আর আমি কখনো চুরি করবো না আমি ভাল হয়ে যাব আমার জন্য আজ ফারিয়ার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ।আমি ফারিয়াকে বলব ফোন দিয়ে আপনি তার মাকে বুঝান প্লিজ আর আপনার টাকা টা চিঠির মাঝে আছে প্লিজ প্লিজ ওকে বাঁচান আমাকে ভালো হওয়ার একটা সুযোগ দেন। আমি সত্যি ভাল হয়ে যাব এখন আমি ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলাম তাহলে আমি হোস্টেল থেকে কাকে বের করলাম চোর তো হোস্টেলে রয়ে গেল। আমি নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি ? ভাবি আমি কি কোন নিরপরাধ মানুষকে বের করলাম ?আমার খারাপ লাগছে বলে সে নিজেই চোর সেজে আমার টাকা ফেরত দিল !আমি তাকে চোর ভেবে চোরের অপবাদ দিয়ে বের করে দিলাম ।এখন যে সত্যি চুরি করেছে সে তার চিঠিতে তার নাম বলেনি আমাকে ।আমি কি করে বুঝবো সে যে টাকাটা আমাকে দিয়েছে আমি রেখে দিয়েছি এবং আমি অপেক্ষায় আছি তার জন্য যে টাকা চুরি করেছে আমার সামনে আসবে কখন? যে সত্যি টাকাটা

চুরি করেছে আমার সামনে আসবে কখন? যে সত্যি টাকাটা চুরি করেছে ঘটনাটা কেমন রহস্যজনক সত্যি কারের চোরটা অজানায় রয়ে গেল এখন আমি মনে মনে ভাবছি আমাদের চোখের সামনে যা ঘটেছে তা সঠিক নাও হতে পারে। আমরা যা ভাবি বা মনে করি কিংবা সন্দেহ করি তা সবটা ঠিক নাও হতে পারে। চোখের দেখা মনের ভাবনায় ভুল থাকতেও পারে তা মানতে হবে। আমি আমার জীবন থেকে যে ঘটনাটা ঘটেছে তা থেকে বুঝলাম আমরা দূর থেকে যা দেখি বা উপলব্ধি করি তা সবটা সঠিক নাও হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মতামত লিখুন
Theme Created By ThemesDealer.Com