মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
৪৪ তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গমাতা সাংস্কৃতিক জোটের আলোচনা সভা ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ভালুকা উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিয়া প্রতীক পেলেন হোসাইন মোঃ রাজিব ইরানের প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক তাপদাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা মাউশির মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, তীরে ফিরছেন জেলেরা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ কামরুল হাসান টিপুর গণসংযোগ এমটিসি মডেল স্কুলের শতভাগ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হওয়ায় সম্মাননা প্রদান
নোটিশঃ
বিডি ২৪ ক্রাইম সাথে থাকুন। আপডেট খবর পড়ুন

অভাবের তাড়নায় স্কুল ছাড়লেও হাল ছাড়েনি হারুণ

রির্পোটারের নাম / ৫৯ বার প্রিন্ট / ই-পেপার প্রিন্ট / ই-পেপার
আপডেট সময় :: শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১০:১৪ অপরাহ্ণ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা : অভাবের তাড়নায় স্কুল ছেড়ে আসা হারুণ মিয়া চা দোকানেও রেখেছে মেধার ছাপ। তাইতো সে সময়ে সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্ধেক দামে চা বিক্রি, সেরা চা গ্রাহককে সম্মাননা ও মাদক বিরোধী প্রচারণায় নেমে প্রশংসা কুড়িয়েছে সে। ব্যতিক্রমধর্মী এসব উদ্যোগের জন্য শহরে আলাদা পরিচিতিও পেয়েছে সে। পাশাপাশি চা বিক্রি করে তাঁর আয়ও ভালো।
তবে অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা ছেড়ে দেয়ায় একটা আক্ষেপ ছিল হারুণের ভিতর। তবে সে হাল ছাড়েনি। চা বিক্রির পাশাপাশি পড়াশোনা করে চব্বিশ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাশ করেছে। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয় থেকে জিপিএ- ২.৮৬ পেয়ে এসএসসি পাশ করেছে হারুণ।

হারুণের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরের সতীষা গ্রামে। বাবা আব্দুল জব্বার পেশায় সবজি বিক্রেতা। মা রহিমা খাতুন গৃহিণী। ছয়-ভাই বোনের মধ্যে হারুণ পঞ্চম। এরমধ্যে চার ভাই-বোন বিয়ে করে আলাদা হয়েছে। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে ২০১০ সালে মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালে পড়াশোনার ছাড়তে হয় তাকে। সংসারের হাল ধরতে ২০১৪ সালে পৌর শহরের কালীখলা এলাকায় চা দোকান খোলে সে। চা বিক্রির পাশাপাশি দোকানে বসে বিভিন্ন ধরণের বই পড়তো হারুণ। পড়ার প্রতি তার এই আগ্রহ দেখে শিক্ষক এমদাদুল হক, আব্দুল মালেক ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর অনুপ্রেরণাতে ২০১৯ সালে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয় ভর্তি হয় সে। চা বিক্রির পাশাপাশি রাতে পড়াশোনা করে এসএসসি পাশ করে সে। হারুণের ছোট বোন চলতি বছর এইচএসসি পাশ করেছে। চা বিক্রি করে সংসারের হাল ধরার পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও চালায় সে।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউটর আব্দুল মালেক বলেন, অষ্টম শ্রেণি পাশ করে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করতে পারে। এক্ষেত্রে বয়সের কোন বাঁধা নেই। এই সুযোগের কারণেই হারুণ চব্বিশ বছর বয়সে এসে এসএসসি পাশ করেছে। আমি তাঁর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।

হারুণ মিয়া বলেন, অভাবের তাড়নায় স্কুল ছাড়লেও আমি হাল ছাড়িনি। স্বপ্ন ছিল স্বাবলম্বী হয়ে ঘুড়ে দাঁড়াবো। এখন নিজের উপার্জনে পড়াশোনা করে এসএসসি পাশ করেছি। চা বিক্রির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাই। লক্ষ্য স্নাতক সম্পন্ন করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মতামত লিখুন
Theme Created By ThemesDealer.Com