বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৩৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
বিডি ২৪ ক্রাইম সাথে থাকুন। আপডেট খবর পড়ুন

গৌরীপুর হলুদ তরমুজ চাষে সাফল্য : কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

রির্পোটারের নাম / ১৬৪ বার প্রিন্ট / ই-পেপার প্রিন্ট / ই-পেপার
আপডেট সময় :: শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২, ৮:৩২ অপরাহ্ণ

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা :ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একসঙ্গে হলুদ ও সবুজ রঙের তরমুজ চাষে সাফল্য এসেছে। ক্ষেতের আইলে, পুকুর পাড় ও পতিত জমিতে হলুদ ও সবুজ দু’রঙের তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন ৩৭জন কৃষক। তাদের সফলতা দেখে অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ভিন্নরঙের এ তরমুজ দেখতে উৎসুক অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন তরমুজ ক্ষেতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই ভিন্ন রঙের এই তরমুজের ছবি প্রকাশ করেছেন।
অ্যাডরা বাংলাদেশের অকৃষি ও কৃষি ভূমি সুষম ব্যবহার ও উন্নত ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি, তথ্য ও পণ্য তুলে দেয়ার আওতায় এই হলুদ রঙের তরমুজ চাষে কৃষকদের উদ্ভুদ্ধ করা হচ্ছে।
রামগোপালপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সাধারণ তরমুজের সঙ্গে অ্যাডরা বাংলাদেশের কর্মীরা হলুদ রঙের তরমুজের বীজ দিয়েছিল। সবুজ ও হলুদ তরমুজ এখন একসঙ্গে ঝুলছে, দেখতে খুব ভালো লাগছে।
অ্যাডরা বাংলাদেশের সমাজ উন্নয়ন কর্মী শিখা দেবনাথ জানান, এ্যাডরা কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তি, তথ্য ও পণ্য তুলে দেয়। তাঁর অধীনে ১১জন কৃষক এ তরমুজ চাষ করেছে। নতুন পণ্যর বাজারে চাহিদাও ব্যাপক, দামও ভালো পাচ্ছেন।
কৃষাণী কুলসুম আক্তার বলেন, গাছে যখন হলুদ রঙের তরমুজ হয় তখন ভেবেছিলেন সবুজ তরমুজে পোকার আক্রমণে হলুদ হয়ে গেছে। এখন তো দেখেন সবই হলুদ।
ইয়ারপুর গ্রামের কৃষাণী সায়েদা আক্তার জানান, এ্যাডরা থেকে বীজ দিয়েছিল। ফলন ভালো হয়েছে। এখন হলুদ তরমুজ দেখতে প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করে ক্ষেতে।
অচিন্তপুর ইউনিয়নের খালিজুড়ি গ্রামের কৃষক চান মিয়া জানান, পুকুরের পাড়ে কয়েকটা বীজ পুঁতে রেখেছিলাম। সেখানে হলুদ রঙের তরমুজ হয়েছে।
অ্যাডরার সমাজ উন্নয়নকর্মী সুমাইয়া আক্তার সুমি জানান, সাধারণ তরমুজের চেয়ে ১৫ গুণ বেশি মিষ্টি হলুদ বর্ণের তরমুজ। ফলে ক্রেতাদের কাছেও বেশ সমাদৃত। প্রথমবারের মতো চাষ হওয়ায় কৃষাণ-কৃষাণীদের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
কমিউনিটি এম্পাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট (সিইপি) ফেইস-২ এর কৃষি সুপারভাইজার মো. এনামুল হক বলেন, বিদেশি জাতের হলুদ তরমুজটি বারোমাসই চাষ করা যায়। রং বদলালেও এই তরমুজের স্বাদ কিন্তু বদলায়নি বরং এ তরমুজ আরও বেশী মিষ্টি ও সুস্বাদু। পরীক্ষামূলকভাবে উপজেলার ৩৭ জন চাষি এ বছর চাষ করেছিল। ফলন ভালো হওয়ায় পরবর্তীতে এর চাষাবাদ আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রজেক্ট ম্যানেজার বাবুল সি গমেজ বলেন, আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রত্যেকটি অকৃষি ও কৃষি ভূমি সুষম ব্যবহার ও উন্নত ফসল উৎপাদনে কারিগরিসহ সার্বিক সহযোগিতা করে আসছি। হলুদ তরমুজও এ প্রকল্পের একটি অংশ। ইতিমধ্যে ব্রুকলি ও লাল বাধাকপি চাষে বেশ সফলতা এসছে। প্রত্যেকটি মানুষকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য তাদের উদ্বুদ্ধকরণ করা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মতামত লিখুন
Theme Created By ThemesDealer.Com