বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:২১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
বিডি ২৪ ক্রাইম সাথে থাকুন। আপডেট খবর পড়ুন

লালমনিরহাট প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নিয়োগ বিহীন প্রধান শিক্ষক পরিচয়ে দুর্নিতী, লুটপাট করছেন সুভাষ বর্মন

রির্পোটারের নাম / ২৫৯ বার প্রিন্ট / ই-পেপার প্রিন্ট / ই-পেপার
আপডেট সময় :: সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

 এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন,লালমনিরহাট

লালমনিরহাট নর্থ বেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক না হয়ে বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ের বেতন,ভাতা,সুযোগ সুবিধা সহ অর্থ লুটপাটের সাথে জড়িত সুভাষ চন্দ্র বর্মন।নর্থ বেঙ্গল ডিজেবল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে এন,জিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হবার সুবাদে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক ব্যাক্তি দুটি প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন।সঠিক নজরদারি ও মনিটরিং না থাকায় সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের অধীন পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম দুর্নিতীর কারনে ব্যাহত হচ্ছে।

বিভিন্ন সুত্র ধরে জানা যায়,লালমনিরহাট পৌরসভার গোশালা সোসাইটির ভিতরে মুক ও বধির প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য নর্থ বেঙ্গল বাস ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৯সালে,নিয়োগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয়টি সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন প্রাপ্ত হন ২৮মার্চ ২০১৩সালে।২০২০সালের ০৬ আগষ্ট সমাজ কল্যান মন্ত্রণালয়ের এমপিও ভুক্ত হন।সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় ২০২১সালের ২১মে এক আদেশে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন থেকে বিদ্যালয়ের ১২জন শিক্ষক কর্মচারীর বেতন ভাতা প্রদান শুরু করে। সেখানে প্রধান শিক্ষক পরিচয় দানকারী সুভাষ চন্দ্র বর্মনের নাম নেই।সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় সুভাষ চন্দ্র বর্মন কে এমন কোন আদেশ প্রদান করেনি অবৈতনিক অথবা প্রধান শিক্ষক হিসেবে।অথচ বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হবার পরেই নর্থ বেঙ্গল ডিজেবেল ডেভেলপমেন্ট এনজিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মন, ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, ছুটি,সহ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় উন্নয়ন ভাউচারে স্বাক্ষর করে তা নিয়ন্ত্রন করছেন।প্রতিষ্ঠানটির ব্যায়ভার সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয় বহন করায় এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই এই প্রতিষ্ঠানের দেখ ভাল সহ সুপারভিশন সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়,জেলা প্রশাসক,অথবা সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাক্তির করার কথা,অথচ অদৃশ্য কারনে ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে সুভাষ চন্দ্র বর্মন ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সরকারের অর্থ লোপাটের মহাৎসব পালন করছেন,এতে মুক ও বধির প্রতিবন্ধী স্কুলটি হুমকির মুখে পড়েছে।

সুভাষ চন্দ্র বর্মন শুরু থেকে স্কুলের উপর খবরদারি করায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত মুল কাগজপত্র তার কাছে রেখেছেন,ফলে তাদের বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখিয়ে তার নির্দেশ মত চলতে বাধ্য করেন,এমন অভিযোগ করেছেন(নাম না প্রকাশ করার শর্তে) অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী।

এদিকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না থাকায় ঐ বিদ্যালয়ের একমাত্র(বিএসএড)ডিগ্রী ধারী জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন, চলতি বছরের ১৭জুলাই জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বরাবরে পদোন্নতির জন্য একটি আবেদন জমা দেন,এটি টের পেয়ে সুভাষ চন্দ্র বর্মন তরিঘড়ি করে ০৮আগষ্ট প্রধান শিক্ষক পদে একটি আবেদন পত্র জমা দেন,এই দরখাস্ত জমা হবার পর থলের বেড়াল বেড়িয়ে আসে,মন্ত্রনালয় জানতে পারে এত দিন প্রধান শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয়টি চলছিলো।

গত ১০আগষ্ট জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন এক পত্রের মাধ্যমে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক পদে জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা মোছাঃআজমেরী হোসেন কে নিয়োগ দেন, এবং গত ২৪ আগষ্ট মন্ত্রনালয় এক পত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী নামের তালিকায় প্রধান শিক্ষক হিসেবে এবং অবৈতনিক শিক্ষক হিসেবে সুভাষ চন্দ্র বর্মনের নাম উল্লেখ নেই।চিঠি প্রাপ্তির পর ক্ষমতা খর্ব হবার কারনে সুভাষ চন্দ্র বর্মন অনৈতিক উপায়ে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন কে প্রভাবিত করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পত্রটি রোধ করে,প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া প্রযন্ত পূর্বের অবস্থায় পরিচালনা করার নতুন আদেশ আনেন গত ০৮সেপ্টম্বর। এই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রীট পিটিশন করেন যার নং-১১৩২৫/২০২২, এবং গত ২৯ সেপ্টম্বর উচ্চ আদালত প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নতুন আদেশ ”প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া প্রযন্ত বর্তমান নিয়মে স্কুল পরিচালনা করার'” আদেশটি কেন বৈধ হবে না তা জানতে রুল জারি করে।

রীটের কথা জানতে পেরে দূর্নিতীবাজ সুভাষ চন্দ্র বর্মন শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন কে নানা ভাবে হয়রানি সহ বেতন বন্ধ ও চাকুরিচূত্য করার হুমকী প্রদান করেন।এই বিষয়ে শিক্ষিকা আজমেরী হোসেন কে জিজ্ঞেস করলে বলেন, আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা আছে বিধায় তিনি আইনের সহায়তা নিয়েছেন,কোন হুমকীতে তিনি বিচলিত নন।

এদিকে নর্থ বেঙ্গল ডিজেবেল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এর নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে স্কুলে দুজন শিক্ষক নিয়োগ দেন,এই নিয়োগ দেবার সময় ২০১২ ও ২০১৮ সালে নিয়োগ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও নিয়োগ অনুমোদন কারী কমিটির সদস্য জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি সিরাজুল হকের জাল স্বাক্ষর ব্যাবহার করেছেন।এ বিষয়ে চার্চ অব গড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান নর্থ বেঙ্গল বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ২০০৯সালের নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন এর পরের নিয়োগ সম্পর্ক্যে সে অবগত নন।

সুভাষ চন্দ্র বর্মনের দুর্নিতীর আর একটি বড় বিষয় বেরিয়ে আসে তদন্তে, নর্থ বেঙ্গল বাক শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক কর্মচারী দেখিয়ে প্রাথমিক গনশিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে নর্থ বেঙ্গল একীভূত শিক্ষা কেন্দ্র নামের একটি স্কুলের অনুমোদন নেন চতুর সুভাষ চন্দ্র বর্মন।অন্য স্কুলের শিক্ষক শিক্ষার্থী দিয়ে জাল জালিয়াতি ভাবে নতুন নামে স্কুল খোলার নজীর এটিই প্রথম।শুধু এটি নয় নিখুঁত জালিয়াতি করতে জাতীয় পরিচয় পত্র তথ্য গোপন করে সুভাষ চন্দ্র রায় নাম ধারন করে নতুন বিদ্যালয়ের এস,এম,সি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হয়েছেন সুভাষ চন্দ্র বর্মন।নিজের ছেলে কে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে নিজের জাল স্বাক্ষর করে কাজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার মতামত লিখুন
Theme Created By ThemesDealer.Com